জীবনের সবচেয়ে মহৎ কাজ হচ্ছে আগে নিজের জীবনকে ভালোবাসা। নিজেকে গড়ে তোলা। এটা সম্ভব হলে পরে অন্যকে ভালোবাসার বিষয়টি সহজ হবে।কোনো সম্পর্কে না জড়ানোটা নিজের ভবিষ্যতকে গড়ার সবচেয়ে ভালো একটি উপায়। এভাবে আপনি আপনার নিজের প্রতি অনেক বেশি যত্নশীল হতে পারবেন। যখন আমরা আমাদের নিজের দিকে মনোযোগ দেই এবং আমাদের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তুলি, তখন আমরাও সব ভালো বিষয়গুলোকে আকর্ষণ করে আমাদের জীবনে নিয়ে আসি।

নিজের আত্মার সাথে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে তুললে আমাদের অন্যসব সম্পর্কগুলোরও উন্নতি হয়। এজন্য পাঁচভাবে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়ে উপকৃত হওয়া যায়। মাইক্রোসফটের নিউজ পোর্টাল এমএসএন ডট কমে গ্যাব্রিয়েল টেইজওয়েল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

একাকী জীবনে নিজের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ পাওয়া যায়
আপনি আপনার নিজেকে সবচেয়ে ভালো যেই উপহারটি দিতে পারেন তা হচ্ছে, নিজেকে সময় দিয়ে নিজের আত্মার সাথে ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি করা। যখন আমরা নিজের আত্মোন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেই, তখন সঠিক ব্যক্তিটি আমাদের জীবনে আসে। বিশ্বাস করুন, যখন আমি বলছি সঠিক মানুষরা আপনার অপেক্ষায় আছেন, আপনাকে শুধু সঠিক কাজটি করে যেতে হবে তাদেরকে আপনার জীবনে নিয়ে আসতে।

ফিরে আসে জীবনে ভালোবাসা
আমরা মাঝে মাঝে বিশ্বাস করি যে, ভালোবাসা কেবল অন্যের কাছেই পাওয়া যায়। কিন্তু এটি সত্য নয়। অন্যের কাছে যে ভালাবাসাটা আমরা চাই, তা যদি নিজেই নিজেকে দিতে পারি তাহলে আমাদের সকল প্রয়োজন মিটে যাবে। এভাবে চিন্তা করাটা আমাদের জন্য কঠিন। কেননা আমাদের সমাজই আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, সম্পর্কে জড়ালেই আমাদের সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। অথচ আরেকজন মানুষ আমাদের জীবনের নতুন একটি পালক বা অংশ, জীবনের উৎস নয়। প্রথমে নিজের আত্মার ভারসাম্য তৈরি করুন, আপনার ভবিষ্যত আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে। সেজন্যই হয়তো বাংলাদেশের কিংবদন্তি গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ লিখেছিলেন, আর ভুল করবো না নিজেকে অধিক ভালোবাসবো, আর ভুল করবো না নিজেকে নিয়ে ভালো থাকবো।

নিজের অনুভূতিগুলো আরও গভীর হয় এবং সম্পর্কে জড়াতে সুবিধা হয়
যখন আমরা নিজেকে সময় দেই তখন আমরা আমাদের জীবনমান, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারি। কোন বিষয়গুলোতে আমরা ছাড় দিতে পারি আর কোন কোন বিষয়ে ছাড় দিতে বিন্দুমাত্র রাজি নই, সেগুলো বুঝতে পারি। সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজেকে সময় দিয়ে এই বিষয়গুলো বুঝতে পারলে সাংসারিক জীবনযাপন সহজ হয়।

ভালো অভ্যাস ও উত্তম আচরণ গড়তে সাহায্য করে
নিজের সাথে সময় কাটানো আমাদের মধ্যে ভালো অভ্যাস ও উত্তম আচরণ গড়তে সাহায্য করে। যা পরবর্তীতে একটি সুন্দর জীবনধারা সাজাতে কাজে লাগে। অন্যদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়তে নিজের ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তোলা জরুরি, যা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তবে যখন আমাদের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী হই, তখন আমরাও ওইসব মানুষদের নিজেদের জীবনে আকর্ষণ করে আসি যারা একই মানসিকতার অধিকারী এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল। একই মানসিকতা ব্যক্তিদের নিজের জীবনে নিয়ে আসতে ভালো অভ্যাসের অধিকারী হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে
মানুষ হিসেবে সত্যিকার অর্থে আমি কে? এই বিষয়টি বুঝতে যখন আমরা নিজেকে সময় দেই তখন আমাদের নিজের সাথে নিজের একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিসে আমরা বেশি আগ্রহ পাই? কোন রেস্টুরেন্টে কাউকে ছাড়াই খেতে আমাদের ভালো লাগে? আরেকজন মানুষের সঙ্গ ছাড়াই নিজের শিকড়কে নিজে উপলব্ধি করাটা অত্যন্ত জরুরি। দিনশেষে আপনার জীবনের প্রথম অগ্রাধিকার আপনিই।

 

কলমকথা/ বিথী